ঢাকা, ৯ মার্চ: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ বিষয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক–১ শাখা থেকে সোমবার (৯ মার্চ) জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং দাখিল ও আলিম মাদরাসা স্তরের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়াও কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেবেন। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের বিষয়টি।
আগের নিয়মে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনয়ন বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অনেক সময় এসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতেন। পরে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।
তবে নতুন প্রবিধানমালা–২০২৪ নিয়ে আলোচনায় আবারও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সভাপতি হলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তাই আগামীকালের মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের ভবিষ্যৎ কাঠামো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সভার আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে প্রবিধানমালায় সংশোধন বা নতুন নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।
Leave a Reply