ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে সমালোচনায় পড়েছে শাহপরীরদ্বীপ হাইওয়ে থানা পুলিশ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিন-রাত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, সিএনজি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থামানো হচ্ছে। পরে কাগজপত্রে ত্রুটি আছে- এমন অভিযোগ তুলে মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে রাখা কিংবা নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত এই সড়কে চলাচলকারী এক ট্রাকচালক জানান, কক্সবাজার থেকে টেকনাফমুখী সড়কে প্রবেশ করার পর থেকেই একাধিক পয়েন্টে বিভিন্ন সংস্থার নামে টাকা দিতে হয়। অনেক সময় স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সমঝোতার নামে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়। চালকদের অভিযোগ, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক নয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির সংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী সিএনজিগুলো থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি সিএনজি থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন চালক। এ ছাড়া, বনভূমিতে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত ডাম্প ট্রাকগুলোও এই চাঁদাবাজির বাইরে নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন সিএনজি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা আদায় করা হলেও এখন সেটি পরিবর্তন করে ‘তালিকা পদ্ধতি’ চালু করা হয়েছে। সমিতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট গাড়ির নম্বরের তালিকা সরবরাহ করা হয়। তালিকাভুক্ত গাড়িগুলো থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা নেয়া হয় এবং তালিকার বাইরে থাকা গাড়িগুলোকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলেন, হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার নামে সড়কের একাধিক স্থানে টাকা আদায়ের কারণে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও চালকদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও একটি গাড়ি থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কে থামানো একটি ফ্রেশ কোম্পানির গাড়ির কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন কয়েকজন। ভিডিওতে উপস্থিত কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, প্রতিদিনই বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে এভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে শাহপরীরদ্বীপ হাইওয়ে থানার ওসি সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply